25.4 C
Agartala
Saturday, April 13, 2024
- Advertisemet -spot_img

চার ঘন্টা ধরে তালাবন্দি কলেজ, চলল অবরোধ

শ্যামলী ত্রিপুরা, খোয়াই প্রতিনিধি: লাগাতার প্রায় চার ঘন্টা কলেজ তালাবন্ধী করে কলেজের সামনে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করার পর বিক্ষোভ কারী ছাত্র ছাত্রীদের সাথে প্রশাসনের কেউ এসে দেখা না করায় বিক্ষোভ কারী ছাত্র ছাত্রীরা উত্তেজিত হয়ে মুল শহরে এসে একই সাথে তিনটি রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। মুলত কলেজ শিক্ষক শিক্ষিকা বদলীর প্রতিবাদে কলেজের ছাত্র ছাত্রীরা সকাল থেকেই কলেজের গেইট তালাবন্ধী করে কলেজের সামনে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিলো। ঘটনা কৈলাসহর রামকৃষ্ণ মহাবিদ্যালয়ে। তেইশ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল নয়টা থেকে কলেজের ছাত্র ছাত্রীরা কলেজের মুল গেইট তালাবন্ধী করে কলেজের গেইটের সামনে কৈলাসহর শহরে প্রবেশ করার মুল রাস্তাটি অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন চলাকালীন ছাত্র ছাত্রীরা জানায় যে, গত দুই দিন পূর্বে কলেজে দুইজন শিক্ষকের বদলির আদেশ আসে। কিন্তু বিনিময়ে নতুন কোনো শিক্ষক দেওয়া হয়নি। অবিলম্বে কলেজের দুইজন শিক্ষকের বদলীর আদেশ প্রত্যাহার করতে হবে। যতক্ষন অব্দি বউলীর আদেশ রদ কিংবা প্রত্যাহার করা হবে না ততক্ষণ অব্দি বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হবে। বিক্ষোভ কারী ছাত্র ছাত্রীরা জানায় যে, কৈলাসহর কলেজে অনেক দিন ধরে শিক্ষক শিক্ষিকার অভাব রয়েছে। গত ২০১৮ সালে রাজ্যে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠা হবার পর একসাথে সতেরো জন শিক্ষক শিক্ষিকাকে বদলী করে নিয়ে গিয়ে তিন জন শিক্ষক শিক্ষিকা দেওয়া হয়েছিলো। এর পরবর্তী সময়ে আরও ছয়জন শিক্ষক শিক্ষিকাকে বদলী করে নিয়ে গিয়ে একজন শিক্ষক শিক্ষিকা দেওয়া হয়েছিলো। অর্থাৎ তেইশ জন শিক্ষক শিক্ষিকাকে বদলী করে নিয়ে গিয়ে চারজন শিক্ষক শিক্ষিকা দেওয়া হয়েছিলো। এরপর নতুন করে গত বাইশ সেপ্টেম্বর আবার আরও দুইজন শিক্ষক শিক্ষিকাকে বদলীর আদেশ কলেজে আসে। কিন্তু দুইজন শিক্ষক শিক্ষিকাকে বদলী করা হলেও নতুন করে কোনো শিক্ষক শিক্ষিকাকে দেওয়া হয় নি। ছাত্র ছাত্রীরা আরও গুরুতর অভিযোগ করেন যে, আগামী নভেম্বর মাসে ন্যাকের একটি টিম কৈলাসহর কলেজ পরিদর্শন করার কথা রয়েছে। ন্যাকের টিমের এই পরিদর্শনের উপর কৈলাসহর কলেজের ভবিষ্যৎের অনেক কিছু নির্ভর করছে। কিন্তু ন্যাকের টিমের পরিদর্শনের পূর্বে এভাবে কলেজে শিক্ষক শিক্ষিকাকে বদলী করে কলেজে শিক্ষক স্বল্পতা সৃষ্টি করায় কৈলাসহর কলেজের অপূরনীয় ক্ষতি হবে বলেও জানান ছাত্র ছাত্রীরা। তবে, বিক্ষোভ প্রদর্শনকারী ছাত্র ছাত্রীরা এও জানায় যে, কোনো রাজনৈতিক দলের কিংবা কোনো ধরনের ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে এই আন্দোলন করা হয়নি। ছাত্র ছাত্রীরা সকাল নয়টা থেকে কলেজ তালাবন্ধী করে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করলেও দুপুর একটা অব্দি প্রশাসনের কেউ না আসায় ছাত্র ছাত্রীরা উত্তেজিত হয়ে কৈলাসহরের মুল শহরের সেন্ট্রাল রোড এলাকায় একসাথে তিনটি রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করে। মুল শহরের রাস্তা অবরোধের খবর পেয়ে দুপুর আড়াইটা নাগাদ ডেপুটি মাজিস্ট্রেট প্রবীর দেববর্মা এবং কৈলাসহর থানার বিশাল পুলিশ এবং টি.এস.আর বাহিনী অবরোধ স্থলে এসে ছাত্র ছাত্রীদের সাথে দীর্ঘক্ষন আলাপ আলোচনা করে কোনো ধরনের সমাধান না মেলায় ডেপুটি মাজিস্ট্রেট প্রবীর দেববর্মা কলেজ অধ্যক্ষ ডঃ পিনাকী পালকে খবর দিয়ে অবরোধ স্থলে নিয়ে আসেন। ডেপুটি মাজিস্ট্রেটের নির্দেশে কলেজ অধ্যক্ষ ডঃ পিনাকী পাল উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তার সাথে ফোনে এই বিষয়ে কথা বলেন। অধিকর্তা জানিয়ে দেন, যে দুইজন শিক্ষক শিক্ষিকাকে বদলী করা হয়েছে তাদের কলেজ থেকে যেতে হবে এবং রাজ্যের কলেজ গুলোতে আগামী এক মাসের মধ্যে নতুন শিক্ষক শিক্ষিকা নেওয়া হবে। তখন কৈলাসহর কলেজে পর্যাপ্ত পরিমাণে শিক্ষক শিক্ষিকা দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে বর্তমানে বদলীরত দুইজন শিক্ষক শিক্ষিকাকে কলেজে পাঠানো হবে। কলেজ অধ্যক্ষ ডঃ পিনাকী পাল এই কথা ডেপুটি মাজিস্ট্রেট এবং বিক্ষোভরত ছাত্র ছাত্রীদের বলার পর বিক্ষোভরত ছাত্র ছাত্রীরা দাবি করে যে, যেহেতু এক মাসের মধ্যে শিক্ষক শিক্ষিকা দেওয়া হবে তাহলে এটা লিখিত ভাবে জানাতে হবে। এই কথা শোনার পর প্রথমদিকে কলেজ অধ্যক্ষ কিংবা ডেপুটি মাজিস্ট্রেট লিখিত দিতে অস্বীকার করলেও পরবর্তী সময়ে কলেজ অধ্যক্ষ ডঃ পিনাকী পাল জানান যে, দপ্তরের অধিকর্তার সাথে কথা বলে আগামী সোমবার লিখিত দেওয়ার চেষ্টা করবেন। এই কথা শোনার পর ছাত্র ছাত্রীরা জানায় যে, যদি আগামী সোমবার কলেজ অধ্যক্ষ ডঃ পিনাকী পাল লিখিত ভাবে না জানান, তাহলে আগামী সোমবার থেকে কৈলাসহরের রামকৃষ্ণ মহাবিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য কলেজের সমস্ত কিছু বন্ধ করে তালাবন্ধী করে দেওয়া হবে। এই কথা বলে ছাত্র ছাত্রীরা বিকাল প্রায় চারটা নাগাদ রাস্তা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়।

ছাত্র ছাত্রীরা কলেজের তালাবন্ধী করে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করায় কলেজের অধক্ষ্য ডঃ পিনাকী পাল সহ কলেজের অন্যান্য শিক্ষক শিক্ষিকারা কলেজের ভিতর প্রবেশ করতে পারেন নি। তবে এব্যাপারে কলেজের অধক্ষ্য ডঃ পিনাকী পাল জানান যে, ছাত্র ছাত্রী দাবী নিয়ে উনি উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তার নিকট লিখিতভাবে জানাবেন। এবং উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তার লিখিত আদেশ পাবার উনি পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন। তবে, কলেজ অধ্যক্ষ ডঃ পিনাকী পাল উনি নিজেও স্বীকার করেন, কলেজে শিক্ষক শিক্ষিকার প্রচুর অভাব রয়েছে

বিক্ষোভ কারী ছাত্র ছাত্রীরা এও জানায় যে, কলেজে শিক্ষক শিক্ষিকার অভাবে প্রথম সেমিস্টার এবং দ্বিতীয় সেমিস্টারের ক্লাস বন্ধ রয়েছে। কিন্তু তেইশ সেপ্টেম্বর শুক্রবার কলেজের ছাত্র ছাত্রীদের আন্দোলনে বেশ কিছু প্রশ্ন উঁকি দিয়েছে। প্রথমত, ২০১৮ সালে রাজ্যে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠা হবার পর থেকে কৈলাসহর কলেজ থেকে দুই দফায় তেইশ জন শিক্ষক শিক্ষিকা বদলী হবার পর দুই দফায় মাত্র চার জন শিক্ষক শিক্ষিকা দেওয়া হলেও তখন সেইসময় কেন কলেজের ছাত্র ছাত্রীরা নীরব ছিলো? তখন তো ছাত্র ছাত্রীদের আন্দোলন করতে দেখা যায় নি। কিংবা তেইশ জন শিক্ষক শিক্ষিকা বদলীর পর তাদের বদলীর আদেশ রদ করার জন্য ছাত্র ছাত্রীদের কোনো ধরনের ভুমিকা নিতেও দেখা যায় নি। যদিও বিক্ষোভরত ছাত্র ছাত্রীরা এবিষয়ে জানায় যে, সেইসময় কলেজে পরীক্ষা চলছিলো, এবং পরীক্ষার পর আন্দোলন করার আগেই শিক্ষক শিক্ষিকাদের রিলিজ করে দেওয়া হয়েছিলো। তাই, সেইসময় আন্দোলন করা হয়নি।

Related Articles

যোগাযোগ রেখো

82,829ভক্তমত
834অনুগামিবৃন্দঅনুসরণ করা
1,320গ্রাহকদেরসাবস্ক্রাইব

সাম্প্রতিক প্রবন্ধসমূহ